
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের আড়াইগঞ্জ এলাকায় ছেলের প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে মারধরসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠে বাবা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। ওই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে রোববার রাতে এলাকায় সালিশ বসে ২০ লাখ টাকার কাবিন এবং প্রেমিকার নামে ৫ শতাংশ জমি লিখে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ের রায় দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের টেকিবাড়ীচানপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঢালজোড়া এলাকার একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ছেলে স্থানীয় আড়াইগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এবং মেয়েটি ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
রোববার সকালে বিদ্যালয়ের পাশে একটি রাস্তায় ছেলে ও মেয়ে কথা বলছিল। খবর পেয়ে ছেলের বাবা আব্দুল মান্নান ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে অনেক দূর নিয়ে আসেন এবং মারধরসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ওই মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে ওই রাতে আড়াইগঞ্জ বিদ্যালয় মাঠে এ বিষয়ে একটি সালিশ বসে। সালিশে ছেলের সঙ্গে মেয়ের ২০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে দেওয়া এবং মেয়ের নামে ৫ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার রায় দেওয়া হয়। আগামী শুক্রবার প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ছেলের বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ে প্রেম করে। তাকে অনেকবার বারণ করলেও সে শোনেনি। রোববার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ে বসে কথা বলছিল। তাকে বারণ করা হলেও সে না শোনায় মেয়েকে শাসন করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে রাতে সালিশ বসে। সালিশে ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়া এবং মেয়ের নামে ৫ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার রায় ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, ছেলের সঙ্গে প্রেম করার অপরাধে টেকিবাড়ী চানপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মেয়েকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ বসেন। সালিশে জুরি বোর্ডে মেয়ের সঙ্গে ছেলের ২০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে এবং মেয়ের নামে ৫ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় ঢালজোড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গজনবী বলেন, ওই এলাকার মেম্বার আব্দুল হান্নানের কাছে বিষয়টি আমি শুনেছি। ওই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে। তবে তাদের বয়স এখনো কম; কিভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, একটি মেয়েকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। তবে মেয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।